হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলিম এবং সকল মানবজাতির প্রতি – শেষ পর্ব

ধারাবাহিকটির গত (৪র্থ) পর্বের শেষাংশে বলা হয়েছিল- আগুন থেকে নিজেকে বাঁচাতে হলে ’মানুষ’ পদবী থেকে উন্নীত হয়ে ’ঈমানদার’ হতে হবে। আর ঈমানের অধিকারী হতে হলে তাঁদের কাছেই আপনাকে যেতে হবে যাঁদের সাথে আছে মহান আল্লাহর নিগূড় সম্পর্ক। প্রশ্ন হল তাঁরা কাঁরা? আবার তাঁদের সাথে যে মহান আল্লাহর নিগূড় সম্পর্ক আছে সেটি আমরা কীভাবে বুঝবো? কেউ একজন আপনার সামনে এসে দাবি করে বসল আমি আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ, আল্লাহকে ভয় কর আর আমাকে মান্য কর। আপনি কী করবেন? অথবা কেউ একজন আপনার সামনে এসে দাবি করে বসল আমি ঈশ্বরের প্রেরিত পুরুষ, ঈশ্বরকে ভয় কর আর আমাকে মান্য কর। আপনি কী করবেন? অথবা কেউ একজন আপনার সামনে এসে দাবি করে বসল আমি আল্লাহর আওলিয়া (’আওলিয়া’ আরবী শব্দ, এর অর্থ হল বন্ধু), আল্লাহকে ভয় কর আর আমাকে মান্য কর। আপনি কী করবেন? আরেকটু আগে যাই। সৃষ্টিকর্তা কি নিজে এসে পৃথিবীতে তাঁর পরিচয় দিয়েছেন না কারো মাধ্যমে তিনি পরিচিত হয়েছেন? উত্তর অবশ্যই দ্বিতীয়টি, তিনি কারো না কারো মাধ্যমে পরিচিত হয়েছেন। যাঁদের মাধ্যমে পরিচিত হয়েছেন তাঁদের আমরা বলি প্রেরিত পুরুষ। তাহলে অবশ্যই ধরে নিতে হবে প্রেরিত পুরুষের সাথে সৃষ্টিকর্তার যোগসূত্র আছে এবং সৃষ্টিকর্তা তাঁর প্রদত্ত ক্ষমতা ও শক্তি দিয়েই প্রেরিত পুরুষ পাঠান। কোরআনে আমরা দেখি, ফেরাউনের যাদুকরেরা যখন তাদের হাতে থাকা দড়ি ও লাঠি গুলোকে সাপ বানিয়ে ছেড়ে দিল তখন হযরত মুসা (আ.) তাঁর হাতে থাকা লাঠিকে ইশারা করা মাত্রই সেটি যাদুকরদের সাপগুলোকে নিমিষেই গিলে ফেলল, হযরত সোলাইমান (আ.) তাঁর সভাসদ পরিবেষ্টিত সিংহাসনটিকে নিয়ে বাতাসের শক্তির সাহায্যে উড়োজাহাজের মতো উড়তেন, হাদীসে আছে- মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামকে একবার ঘুমন্ত অবস্থায় একা পেয়ে এক কাফের তলোয়ার উচিঁয়ে যখন বলল এবার বাঁচাবে কে, তখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম সাথে সাথে বললেন আল্লাহ আর বলা মাত্রই কাফেরটি ভয়ে কাঁপতে শুরু করল এবং তলোয়ারটি তার হাত থেকে পড়ে গেল, আরো জানি, অত্যাচারী হিন্দু রাজাকে শায়েস্তা করার জন্য হযরত খাজা বাবা (রহ.) পুরো আনা সাগরের (ভারতে) পানি নিজের ছোট্ট ঘটিতে ভরে ফেলা ইত্যাদি। তাই সৃষ্টিকর্তার পরিচয় পেতে হলে আপনাকে আগে খুঁজতে হবে তাঁর প্রেরিত পুরুষকে। এবং যিনি প্রেরিত পুরুষ তিনি অবশ্যই সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক শক্তির অধিকারী যাকে বলা হয় আধ্যাত্মিক শক্তি। সুতরাং কাউকে গুরু কিংবা বাবা কিংবা ইমাম ডাকার আগে পরীক্ষা করে নিন আসলেই তার নিকট আধ্যাত্মিক শক্তি আছে কিনা। আবার এক্ষেত্রে অনেক অসাধু ধান্ধার জন্য অপশক্তির (যেমন-জ্বিন, কুফুরী কালাম) আশ্রয় নিয়ে অনেক প্রকার ভেল্কিবাজি দেখিয়ে আপনাকে বিভ্রান্ত করতে পারে (যেমন- পীরবাবা, হুজুর বাবা, গায়েবী বাবা, তান্ত্রিক, যোগী ইত্যাদি পদবী লাগিয়ে কিছু ভন্ড মানুষের চেয়ে অধস্তন সৃষ্টি যেমন- জ্বীন ইত্যাদির সাহায্য নিয়ে বুজরুকি কান্ড দেখিয়ে মানুষদের নিজের দলে ভেড়ানো)। মোটেও চমকাবেন না। কারণ যিনি আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী তিনি আপনার মাঝেও আধ্যাত্মিক শক্তির সমাহার ঘটাতে সক্ষম যার বলে আপনি নিজের মধ্যেও ঐশী শক্তি অনুভব করবেন। এবং ধীরে ধীরে আপনার মাঝে প্রকাশ পাবে সৃষ্টিকর্তার পরিচয়। এবং আরো গভীরে গেলে আপনি দেখবেন সবকিছু আসলে আপনাকেই কেন্দ্র করে, আপনি নেই কিছুই নেই! আর এ ব্যবস্থা ’ইসলাম’ ব্যতীত অন্য কোন কিছুতে নেই। শ্রীকৃষ্ণ, গৌতম বুদ্ধ, হযরত ঈসা-মুসা হতে শুরু করে যত নবী-রসূল তথা সৃষ্টিকর্তার প্রেরিত পুরুষ এ পৃথিবীতে এসেছেন সবাই একটি ধর্মই প্রচার করেছেন আর তা হল ’ইসলাম’। বৈশ্বিক কিংবা পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে তাঁদের ধর্মীয় প্রয়োগবিধি হয়ত ভিন্ন হতে পারে কিন্তু মূলে আসলে একটিই বিশ্বাস আর তা হল ’ইসলাম’। আর ’ইসলাম’ অর্থই হল আত্মসমর্পণ বা সমর্পিত হওয়া। কার কাছে আত্মসমর্পণ? অবশ্যই মহান সৃষ্টিকর্তার সমীপে। এখন সৃষ্টিকর্তা তো নিজে এসে পৃথিবীতে তাঁর পরিচয় দেননি। আন্দাজে কাউকে আল্লাহ, ভগবান, ঈশ্বর, গড আমি কেন ডাকব কোন প্রমাণ ব্যতীত? যেহেতু সৃষ্টিকর্তা নিজেই বলেছেন তিনি তাঁর পরিচয় অবগত করানোর জন্য তাঁর প্রেরিত পুরুষ পাঠিয়েছিলেন, পাঠাচ্ছেন এবং পাঠাবেন অতএব আমাকে আত্মসমর্পণ করতে হবে সৃষ্টিকর্তার প্রেরিত পুরুষ-এর নিকটেই। কোরআনে আছে,
”যে রসূলের আনুগত্য করে তবে নিশ্চয় সে আল্লাহরই আনুগত্য করে” (সূরা নেসা, আয়াত: ৮০)।
এছাড়া দ্বিতীয় আর কোন পথ নেই। যে বলবে আছে সে ’শয়তান’ ব্যতীত অন্য কিছু নয়। কারণ আদিতেই এ শয়তান সৃষ্টিকর্তার প্রেরিত পুরুষ ’আদম’ কে মেনে নেয়নি। এখন অনেকে হয়ত বলতে পারেন বর্তমানে ’রসূল’ নেই তো আমরা কার কাছে সমর্পিত হব। প্রশ্নটি অজ্ঞতাপ্রসূত। রসূল সর্বযুগে আছেন। তিনি ছিলেন, তিনি আছেন এবং তিনি থাকবেন। তবে ভিন্ন নামে। অতীতে নবী, আদম, রসূল আর বর্তমানে মুর্শিদ, মুহসীন, মু’মীন, সালেহীন, মুত্তাকী, ওলিআল্লাহ ইত্যাদি নামে (কোরআনের ভাষ্য অনুযায়ী)।
এখন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ইহুদী ধর্মের অনুসারীরা হয়ত প্রশ্ন করতে পারেন তবে কি শ্রীকৃষ্ণ, গৌতম বুদ্ধ, হযরত ঈসা-মুসা সবাই কি ’ইসলাম’ ধর্মই প্রচার করেছেন? অনেকে হয়ত আহত হতে পারেন কিন্তু উত্তর হচ্ছে হ্যাঁ, তাঁরা ’ইসলাম’ ধর্মই প্রচার করেছেন। সৃষ্টিকর্তা একজনই সুতরাং ধর্মও একটিই। আপনার বিক্রি হয়ে যাওয়া বিবেক হয়ত বিষয়টি মানতে পারবে না আর আমি কাউকে মানতে বাধ্যও করছি না, আমি শুধু সত্যটিই বলে যাচ্ছি। আবার প্রশ্ন আসতে পারে সৃষ্টিকর্তা একজনই সুতরাং ধর্মও একটি হলে তবে পৃথিবীতে আমরা এতগুলো ধর্ম দেখতে পাচ্ছি কেন? উত্তর সোজা, একটি ছাড়া বাকি সবগুলোই মানবরচিত অথবা স্বার্থবাদীদের দ্বারা বিকৃত। যুগে যুগে কালে কালে এমনকি এখনও আমরা দেখি ধর্মকে পুঁজি করে ভন্ডরা কী হীনমন্যভাবে নিজেদের আখের গুছিয়ে নিচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ষড়যন্ত্র হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে ’ইসলাম’ ধর্ম নিয়ে। অন্য ধর্মাবলম্বীরা তো আছেই, খোদ ’ইসলাম’ ধর্মের তথাকথিত অনুসারীদের দ্বারাও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কারণ একদম সোজা, খাঁটি জিনিসেরই ভেজাল বেশি হয় ফালতু জিনিস কেউ ধরেও দেখে না। অথচ আমরা সৃষ্টির সেরা (!) হয়ে ফালতু জিনিসেই হাবুডুবু খাচ্ছি!
অসাড় বস্তু আর ভন্ডদের কাছে নিজেকে সমর্পিত করে আপনার কী উপকারটা হচ্ছে? বলবেন পরকালে স্বর্গ পাবো, হেভেন পাবো, জান্নাত পাবো ইত্যাদি। সবই তো ভবিষ্যত, বর্তমানে কী? বর্তমানে মুলা! তবে তো আমিও পারি একটি ধর্ম বানিয়ে কিংবা কোন ধর্মের প্রচারক সেজে পরকালের ভয় দেখিয়ে টু-পাইস কামিয়ে নিতে! আপনার পরকাল গোল্লায় যাক আমার হালুয়া-রুটি পেলেই হল! সারাবিশ্বে ধর্মের নামে এসবই তো চলছে, না আমি ভুল বলছি? সামান্য একটি চাকুরীতে ঢোকার আগে আপনি কত কি চিন্তা করেন-বেতন কী হবে, বোনাস কয়টা, চাকুরীর নিশ্চয়তা কী অথবা একটি ব্যবসা শুরুর আগে কতবার ভাবেন-মূলধন উঠবে তো, লাভ আসবে তো ইত্যাদি অথচ ধর্ম নিয়ে আপনার কোন চিন্তাই নেই। কারণ ধর্মবিদরা তো বলে দিয়েছেন ধর্মের ফলাফল সব ভবিষ্যতে। যেহেতু বর্তমানে মুলা অতএব মসজিদে আছি আবার পাপেও আছি, মন্দিরে আছি আবার ভন্ডামিতেও আছি, প্যাগোডায় আছি আবার হত্যায়ও আছি, গির্জায় আছি আবার নষ্টামিতেও আছি! যে ধর্মের কোন বর্তমান ফলাফল নেই সে ধর্মে থেকে লাভ কী?

”এবং ডাকিও না আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহকে, নাই কোন ইলাহ তিনি (আল্লাহ) ব্যতীত” (সূরা ক্বাসাস, আয়াত: ৮৮)।
যদি আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ না থাকে তবে বাকিরা যেমন- ভগবান, ঈশ্বর, গড ইত্যাদি কোত্থেকে এল? এগুলো কি মানুষের বানানো নাকি সত্যিই এদের কোন অস্তিত্ব আছে? যদি অস্তিত্ব থাকতো তবে তো ডাকলে সাড়া পাওয়া যেত। বাস্তবেও দেখা যায় কতগুলো অসাড় ও জড় বস্তুর (মূর্তি, পাথর ইত্যাদি) সম্মুখে মানুষ নত হয়ে আছে। তাদের দাবি ভগবান, ঈশ্বর, গড নাকি এসব মূর্তি এবং পাথরের মাঝে ভাস্বর হয়ে উঠেন! আমি আগেই বলেছি মানুষ নিয়েই সবকিছু। মানুষ নেই ধর্মও নেই। মানুষ বাদ দিয়ে ভগবান, ঈশ্বর, গড কেন কতগুলো পুতুল এবং পাথরের মাঝে ভাস্বর হয়ে উঠবেন আমার মাথায় আসে না। সহজেই বুঝা যায় এগুলো সবই ধান্ধাবাজদের আবিষ্কার। কোরআনে আছে,
”তারপর যখন তাকে সুসংবদ্ধ করলেন এবং আমরা তার মধ্যে আবরণমুক্ত করলাম আমার রূহ হতে (যা দেয়া হয়েছে তা) সুতরাং তখন তার জন্য সেজদাকারী হতে বললাম” (সূরা হিজর, আয়াত: ২৯)।
’আমরা তার মধ্যে আবরণমুক্ত করলাম আমার রূহ হতে’ অর্থাৎ মহান আল্লাহ মানুষের মধ্যে তাঁর রূহ সঞ্চার করে তাঁকে (মানুষকে) সবার সেরা করলেন। সেরা না হলে তাঁকে সেজদা দেবে কে? এখানে সেজদা মানে মাথা নত করা নয়, আত্মসমর্পণ। পাঠক একটু গভীর ভাবে চিন্তা করুন, সৃষ্টিকর্তা স্বয়ং সম্মুখে থেকেও নিজেকে সেজদা না করে করতে বললেন নিজের নির্বাচিত সৃষ্টিকে তাঁর অন্যান্য সৃষ্টিদের যারা আকারে আদলে নির্বাচিত সৃষ্টির মতোই! কেন? কারণ সৃষ্টিকর্তা অসীম। তাঁকে ধরা, ছোঁয়া তো দূরের কথা কল্পনায়ও আনা সম্ভব নয়। আমরা (মানুষেরা) সৃষ্টি এবং সসীম। সসীমের মাঝেই তাঁকে খুঁজে নিতে হবে। সসীমের মাঝেই তিনি তাঁর রূহ তাঁর রহস্য সঞ্চার করে দিয়েছেন। এর বেশি কিছু আমি আর বলব না। যদি জানতে চান তবে আমার মতো ধ্যানের পথে আসুন তাঁর একজন নির্বাচিত সৃষ্টির নিকট আত্মসমর্পণ করে। আর জানতে না চাইলে চাকর/ব্যবসায়ী/স্বাবলম্বী হয়ে খেয়ে-পরে-মরে চতুষ্পাদ প্রাণীর মতো জীবন কাটিয়ে দিন। না ফেরার জগতে যেয়ে যখন চরম আফসোস করবেন তখন তাদের ডাক দিয়েন যারা স্বর্গ আর বেহেশতের কথা বলে আপনাদের পকেট খালি করেছিল, হুর-পরীদের লোভ দেখিয়ে যোদ্ধা বানিয়েছিল, পাথরের পূজো করিয়ে বোকা বানিয়েছিল।
অতীতে পথহারা মানুষেরা শ্রীকৃষ্ণ, গৌতম বুদ্ধ, হযরত ঈসা-মুসার কাছে আত্মসমর্পণ করে পথের দিশা পেয়েছিল যদিও তাঁরা (শ্রীকৃষ্ণ, গৌতম বুদ্ধ, হযরত ঈসা-মুসা) তাদেরই মতো মানুষ ছিলেন কিন্তু আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ আর বর্তমানে তাঁদের মূর্তির সম্মুখে মাথা নত করে যাবতীয় অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে! কারণ সত্য পথের সন্ধান পায়নি। অসাড় বস্তু কখনো সত্যের সন্ধান দিতে পারে না। শ্রীকৃষ্ণ কিংবা গৌতম বুদ্ধ কিংবা হযরত ঈসা-মুসা আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ ছিলেন যেভাবে জর্জ ওয়াশিংটন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ছিলেন। জর্জ ওয়াশিংটন এখন অতীত কারণ তিনি মৃত কিন্তু ’রাষ্ট্রপতি’ পদটি এখনো বর্তমান। রাষ্ট্রপতি কখনো মরতে পারে না কারণ রাষ্ট্রপতি কোন ব্যক্তি নয় এটি একটি পদবী। শ্রীকৃষ্ণ কিংবা গৌতম বুদ্ধ কিংবা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম মৃত্যুবরণ করতে পারেন কিন্তু ’রসূল’ এখনো বর্তমান কারণ ’রসূল’ কোন ব্যক্তি নয় এটি একটি পদবী। যতদিন পৃথিবীর লীলাখেলা চলবে ততদিন রাষ্ট্রপতিও থাকবেন, রসূলও থাকবেন পথহারা মানুষদের সত্যের সন্ধান দেয়ার জন্য। রাষ্ট্রের ভারসাম্যের জন্য যেমন রাষ্ট্রপতির প্রয়োজন তেমনি পৃথিবী ও মানুষের মনোরাজ্যের ভারসাম্যের জন্য রসূলের প্রয়োজন। রসূলের পরিচয় যে পায়নি সে শত-কোটিবার আল্লাহকে ডাকতে পারে কিন্তু সাড়া পাওয়ার আশা দূরাশা বৈ আর কিছু নয় অথচ মহান আল্লাহ বলছেন,
”আমাকে ডাক, তোমাদের জন্য আমি সাড়া দিব” (সূরা মু’মীন, আয়াত: ৬০)।
অনেকে হয়ত বলতে পারেন আমরা সাড়া না পেলেও অমুক-তমুক ডেকে সাড়া পেয়েছিলেন। অমুক-তমুক ডেকে সাড়া পেয়েছিলেন কি পান নাই এটা জেনে আমার কোন লাভ নেই। আমাকে দেখতে হবে আমি ডেকে সাড়া পাচ্ছি কিনা। যেহেতু কথাটি মহান আল্লাহর যে ডাকলে তিনি সাড়া দেবেন অতএব এতে কোন সন্দেহ নেই। আপনি ডাকছেন কিন্তু সাড়া পাচ্ছেন না এতে আল্লাহর কোন দোষ নেই, দোষ আপনার। আরবী ’উদউনি’ এর বাংলা হচ্ছে ’আমাকে একা ডাক’। দু’জন হলে হবে ’উদউনা’। ’আমাকে ডাক, তোমাদের জন্য আমি সাড়া দিব’ আয়াতটিতে আছে ’উদউনি’ অর্থাৎ ’আমাকে একা ডাক’। আপনার সাথে কিন্তু আরেকজন সবসময় আছে আর সে হচ্ছে মানুষের আদি শত্রু নাম ’শয়তান’। যতক্ষণ সে আপনার সাথে আছে ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি ’উদউনা’ আর ’উদউনা’ অবস্থায় জীবনভর আল্লাহকে ডাকতে পারেন কিন্তু সাড়া কস্মিনকালেও আসবে না। তো উপায়? উপায় একটাই, রসূলের দ্বারস্থ হওয়া। কারণ রসূলের সাহচর্য মানে আল্লাহরই সাহচর্য। আর রসূলের সাহচর্য গ্রহণ করলে শয়তান পালাতে বাধ্য কারণ শয়তান আল্লাহ মানে কিন্তু রসূল মানে না যেভাবে সে আদমকে মেনে নেয়নি। শয়তান পালালে আপনি একা অর্থাৎ ’উদউনি’। এবার আল্লাহকে ডাক দিন তখন দেখবেন আমার রব কতই না দয়ালু। শয়তানের স্লোগান হল ’আল্লাহকে ছাড়া আর কিছু মানি না’। মজার ব্যাপার হল স্লোগানটি কিন্তু ইদানিং বেশ জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে!

যেহেতু সর্বপ্রকার ভন্ডামো বাতিল তাই আপনাকে (যারা ইসলামিক নাম ধারণ করে নিজেকে ইসলাম ধর্মের লোক ভাবছেন তাদেরকে সহ বলছি) ’ইসলাম’-এর ছায়াতলে আসার আহবান জানাচ্ছি। ’ইসলাম’-এর সারাংশ একটি বাক্যের মধ্যেই নিহিত আর তা হল,
”নেই কোন ইলাহ আল্লাহ ব্যতীত এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রসূল”।
শুধু উচ্চারণ কিংবা কথায় নয় বাস্তবেও আপনাকে জেনে যেতে হবে যে আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রসূল। আমি অধম যদি এর বাস্তব প্রমাণ পেতে পারি আপনার জন্য বাধা কোথায়? এখন নিশ্চয় জানতে চাইবেন আমার প্রমাণের সত্যতা কী। একটি পুরোনো উদাহরণ দেয়া যাক। বায়ু দেখা যায় না সত্য কিন্তু আমরা সবাই জানি বায়ুর ওজন আছে। প্রমাণ করতে হলে দরকার একটি বেলুন এবং পরিমাপক যন্ত্র। বায়ুশূন্য বেলুন এবং বায়ুভর্তি বেলুন পরিমাপক যন্ত্রে মেপে দেখুন দেখা যাবে বায়ুভর্তি বেলুনটি ওজনে বেশি। প্রমাণ করতে যাবো বায়ুর ওজন দরকার হল আরো দুটো জিনিসের (বেলুন এবং পরিমাপক যন্ত্র)। আল্লাহ এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)-এর বাস্তবতা প্রমাণের জন্যও আরেকজনের দরকার আর তিনি হলেন রসূল (বর্তমানে মুর্শিদ, মুহসীন, মু’মীন, সালেহীন, মুত্তাকী, ওলিআল্লাহ)।

মানবজাতির উত্থান একই উৎস থেকে, দ্বিতীয় কোন উৎস নেই থাকতে পারেনা। আর উৎসটি হলেন আল্লাহ। যেহেতু উৎস একমাত্র আল্লাহ তাই ধর্মও একটি আর তা হল ’ইসলাম’। অনেকে হয়ত মানতে চাইবে না। মৃত্যুর পর সব রহস্য প্রকাশ হয়ে যাবে কিন্তু তখন সত্যটি দেখেও কোন লাভ হবে না। কারণ মৃত্যু পরবর্তী অবস্থা থেকে আর কাউকে মর্ত্যরে জগতে ফেরত পাঠানো হবেনা। যা জানার যা বুঝার যা দেখার যা অনুভব করার সব এখানেই। অতএব মসজিদে যেয়ে নামাযে দাঁড়ানোর আগে, মন্দিরে যেয়ে পূজো দেয়ার আগে, প্যাগোডায় যেয়ে আরাধনার আগে, গির্জায় যেয়ে প্রার্থনার আগে জেনে নিন আসলেই আপনি সত্যের পথে আছেন না প্রলোভনের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছেন।

Advertisements