মানুষ মরণশীল নয়

জন্মিলে মরতে হয়, আমরা সবাই জানি। আর তাই বলা হয় মানুষ মরণশীল। আমাদের চেনা মুরব্বীরা কেউ আজ নেই। মায়ের পেট থেকে মৃত শিশু বের হয়, আবার যেকোন বয়সেই, কি এক বছর আর কি একশ বছর, যে কেউ মারা যাচ্ছে। আসলেই কি মানুষ মারা যায় না অন্য কিছু হয়! মানুষের রূপান্তরকর্তা কোরআনে বলছেন,
”কুল্লু নাফসিন যা-য়িক্বাতুল মাওত” (সূরা আল ইমরান, আয়াত: ১৮৫; সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ৩৫; সূরা আনকাবুত, আয়াত: ৫৭)। অর্থ: ”প্রত্যেক নফস মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করে”।
অথচ অনেক কোরআন ব্যাখ্যাবিদ আয়াতটির অনুবাদ করেছেন ”প্রত্যেক জীব বা প্রাণীকেই মৃত্যুবরণ করতে হবে”। কোথায় ’নফস’ আর কোথায় ’জীব বা প্রাণী’! নফস একটি লতিফার নাম, লতিফার বাংলা হল অদৃশ্য ইন্দ্রিয়। লক্ষ্যণীয়, ’মৃত্যুবরণ করা’ আর ’মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করা’ কিন্তু এক জিনিস নয়। সুতরাং বুঝা যাচ্ছে নফসের মৃত্যু নেই, মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করে মাত্র। নইলে বলা হত প্রত্যেক নফস ধ্বংস হয়ে যাবে। নফস পবিত্র কিন্তু যখন এর উপর দুনিয়ার কলুষিত মায়া পতিত হয় অর্থাৎ দুনিয়া এবং এর জাঁক-জমক ও আরাম-আয়েস নিয়ে ব্যস্ত থাকতে থাকতে মানুষ যখন আখেরাতকে ভুলে শয়তানের খপ্পরে পড়ে তখন নফস হয়ে যায় অপবিত্র। সৎ কর্মের মাধ্যমে যিনি নিজেকে যত পরিশুদ্ধ করতে পারেন তিনি তত উন্নত নফসের অধিকারী হতে পারেন। আর তাই পবিত্র কোরআনে কর্ম বিবেচনায় চার প্রকার নফসের উল্লেখ দেখা যায়।
প্রথমটি হচ্ছে ’নফসে আম্মারা’ (সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৫৩ দ্রষ্টব্য) অর্থাৎ যে নফস আত্মশুদ্ধির কোনরূপ চেষ্টা করে না, সাময়িক আনন্দ আর সুখে যে নফস পাপের পর পাপ করে যেতে থাকে, আত্মগরিমার অন্ধকারে যে নফস সম্পূর্ণ কলুষিত। পৃথিবীর ”অধিকাংশ মানুষ” এ নফসের বাহন।
দ্বিতীয়টি হচ্ছে ’নফসে লাওয়ামা’ (সূরা ক্বিয়ামত, আয়াত: ২ দ্রষ্টব্য) তথা যে নফস আত্মশুদ্ধির জন্য সর্বপ্রকার অন্যায় ও প্রবৃত্তির কুতাড়নার বিরুদ্ধে সংগ্রামে লিপ্ত আছে। উল্লেখ্য সূরা ক্বিয়ামতের প্রথম আয়াতে ক্বিয়ামত তথা একটি নফসের সৃষ্টির বন্ধন হতে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময়ের কথা বলা হয়েছে অর্থাৎ মৃত্যু। অনেকে মনে করে ক্বিয়ামত হচ্ছে পৃথিবী এবং আকাশ মহাকাশ ধ্বংস হয়ে যাওয়া! আপনার চলে যাওয়াটাই হচ্ছে ক্বিয়ামত কারণ আপনি আর আসবেন না। পৃথিবী থাকলেও কি আর না থাকলেও কি আপনি তো নেই। আপনি নেই কিছুই নেই। যদিও সবকিছু আছে শুধু আপনার জন্য নেই। যদিও এ মর্ত্যের জগতে আপনার প্রবেশ চিরতরে নিষিদ্ধ কিন্তু রূপান্তর প্রক্রিয়ায় আপনি আবার জীবিত হবেন কারণ নফস শক্তির একটি অংশ আর আমরা সবাই জানি (বিজ্ঞানও প্রমাণ করেছে) শক্তির ধ্বংস নেই আছে শুধু রূপান্তর আর এজন্যই মহান আল্লাহর আরেক নাম ’খালেক্ব’ অর্থাৎ রূপান্তরকর্তা। আর তাই সূরাটির দ্বিতীয় আয়াতে ’নফসে লাওয়ামা’-এর কথা বলা হয়েছে এজন্য যে লাওয়ামা নফস সৎকর্মের চেষ্টায় রত আছে যাতে সে আরো উচ্চস্তরে যেতে পারে। পৃথিবীর ”কিছু মানুষ” এ নফসের বাহন।
তৃতীয়টি হচ্ছে ’নফসে মোত্বমায়েন্নাহ’ (সূরা ফাজ্বর, আয়াত: ২৭ দ্রষ্টব্য) তথা প্রশান্ত নফস তথা সম্মানিত নফস। একমাত্র এ নফসটিকেই রবের দিকে খুশি মনে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। অন্য আর কাউকে নয়। অনেকে সূরা বাকারার ১৫৬ আয়াতের (ইন্না লিল্লাহে …) দোহাই দিয়ে বলে আমরা সবাই নাকি আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করব। মোটেই না। আয়াতটিতে সবার কথা বলা হয়নি। বলা হয়েছে শুধু ধৈর্য্যশীল ঈমানদারদের কথা। শুধুমাত্র তাঁরাই আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করবে (সংখ্যার বিচারে ”মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ”)। বাকীরা কোথায় যাবে দয়া করে বুঝে নিন।
চতুর্থটি হচ্ছে ’নফসে ওয়াহেদ’ (সূরা নেসা, আয়াত: ১, সূরা আনাম, আয়াত: ৯৮, সূরা আরাফ, আয়াত: ১৮৯ দ্রষ্টব্য)। নফসের এ স্তর সর্বোচ্চ মানের স্তর। এ নফস সম্পর্কে আর বেশি কিছু বলার অর্থই হল দুধের শিশুকে পোলাও-কোর্মা গেলানোর সমতুল্য। ’নফসে লাওয়ামা’ পর্যায়ে আসুন তখন আপনি নিজেই বুঝবেন ’নফসে ওয়াহেদ’ কী এবং কারা।
অনেকে আবার মনে করতে পারে নফস মনে হয় চারটি। আসলে নফস একটিই কিন্তু মানুষের কর্ম ভেদে রূপ পরিগ্রহণ করে চারটি। কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আপনি নিজেকে উচ্চ পর্যায়ের জ্ঞানীর স্তরে নিয়ে যেতে পারেন আবার অধ্যবসায় না করে ’এইট পাশ’ পর্যায়েও রাখতে পারেন। হাদীসে কুদসীতে আছে, ’মান আরাফা নাফসাহু ফাকাদ আরাফা রাব্বাহু’ অর্থাৎ যে নিজের নফসকে চিনতে পেরেছে সে তার রবকে চিনতে পেরেছে। এজন্যই ’নফসে মোত্বমায়েন্নাহ’ কে রবের দিকে খুশি মনে ফিরে যেতে বলা হয়েছে কারণ সে তার রবকে চিনেছে।
অনুধাবন করার বিষয় হল হাদীসটিতে বলা হয়নি ’যে নিজের ”রূহ”কে চিনতে পেরেছে সে তার রবকে চিনতে পেরেছে’। বলা হয়েছে নফসের কথা। অথচ মানুষ মৃত্যুবরণ করলে অনেকে বলে লোকটির রূহ চলে গেছে! আমার প্রশ্ন – রূহ আসলো কবে যে আবার চলে যাবে। অনেকে আবার রূহের মাগফেরাতও কামনা করেন মুনাজাতে! কোরআনে রূহের জন্ম-মৃত্যু বিষয়ে কিছুই উল্লেখ নেই। শুধু উল্লেখ আছে রূহ নাযিল হয় কিংবা ফুৎকার করা হয় কিংবা অহি হয়। রূহ কী? কোরআনে রূহ সম্পর্কে বেশি কিছু বলা হয়নি, মাত্র সতের বার রূহের উল্লেখ দেখতে পাওয়া যায়। রূহ রহস্যময়। বলে কিংবা লিখে রূহ সম্পর্কে তেমন কিছু বুঝানো যাবে না। রূহ সৃষ্টির পর্যায়ে পড়ে না বরঞ্চ রূহ সৃজনী শক্তির অধিকারী। রূহ সকল সংজ্ঞার উর্ধ্বে। যিনি রূহের অধিকারী হন সমস্ত সৃষ্টি তখন তাঁর আদেশ মানতে বাধ্য হয়ে যায়। কোরআনে আছে,
”এবং এভাবে আমরা (হে মানব) তোমার প্রতি অহি করেছি রূহ আমাদের নির্দেশে। কিতাব এবং ঈমান কী তা তুমি জানতে না এবং আমরা এটিকে (রূহকে) করেছি একটি নূর যা দ্বারা আমরা পরিচালনা করি আমাদের দাসগণের মধ্যে যে অসীম ইচ্ছা রাখে তাকে” (সূরা শুরা, আয়াত: ৫২)।
আয়াতটি থেকে বুঝা যাচ্ছে রূহ হচ্ছে নূর এবং এ নূরের অধিকারী হলে আপনি বুঝতে পারবেন কিতাব এবং ঈমান কী এবং তখন আপনি আর আগের ”আপনি” থাকবেন না, আপনার সমস্ত কর্মকান্ড পরিচালিত হবে উপরের নির্দেশে, আপনি তখন ”হও” বললে পাথরও সোনায় পরিণত হবে। নূর অর্থ আলো। আলো কিন্তু দেখা যায়। অন্ধকার সৃষ্টি করতে হয় না কিন্তু আলো সৃষ্টি করতে হয়। আর কোন কিছু সৃষ্টি করতে হলে শক্তির প্রয়োজন- সেটা হতে পারে জ্ঞানের শক্তি, শারীরিক শক্তি কিংবা মানসিক শক্তি। চোখ বন্ধ করলে আমরা আর কিছু দেখতে পাই না, সবকিছু অন্ধকার লাগে। খোলা চোখেও আমরা বেশি দূর দেখতে পারি না। যেখানে খোলা চোখে দৃশ্যমান অনেক কিছু দেখা যাচ্ছে না সেখানে অদৃশ্যমান কিছু দেখা তো অসম্ভব ব্যাপার। কোরআনে আছে,
”আল্লাহ চিদাকাশ এবং ভবদেহর নূর” (সূরা নূর, আয়াত: ১)।
রূহের অধিকারী হলেই কেবল বুঝা যাবে আল্লাহ চিদাকাশ এবং দেহভান্ডের নূর কারণ নূরের অধিকারী না হলে মহাশক্তিমান নূরের পরিচয় পাওয়া কখনোই সম্ভব নয়। একজন জ্ঞানী ব্যক্তিই কেবল তাঁর মত অন্য আরেকজন জ্ঞানীর জ্ঞান পরিমাপ করতে পারবেন যা কোন মূর্খের দ্বারা সম্ভব নয়। সমস্ত মানব শিশুই জ্ঞান নিয়ে জন্মগ্রহণ করে কিন্তু সবাই জ্ঞানী হয় না, হয় কেবল তাঁরাই যাঁরা অধ্যবসায় ও জ্ঞান সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত রাখে। ঠিক সবার মাঝে রূহ সুপ্ত ভাবে বিরাজ করলেও সবার উপর রূহ অহি করা হয় না, হয় কেবল তাঁদের উপর যাঁরা সৎকর্মের মাধ্যমে নিজেকে ধ্যান সাধনায় নিয়োজিত রাখেন। যাঁর উপর রূহ অহি হয় তাঁকে হেদায়েতও দান করা হয় এবং যাঁকে হেদায়েত দান করা হয় তাঁর দ্বারা কখনো আর কোন পাপ কর্ম সম্পাদিত হয় না (কি প্রকাশ্যে কি গোপনে)।
আশা করি এ পর্যন্ত আপনারা নফস এবং রূহের পার্থক্যটি বুঝেছেন। এবার আলোকপাত করব আরেকটি লতিফার যার নাম ’কাল্ব’। আমি নফস, রূহ কিংবা কাল্ব কোনটিরই বাংলা অনুবাদ দিইনি কারণ এগুলোর সঠিক বাংলা অনুবাদ বা ভাবানুবাদ কিংবা পরিভাষা হয় না। অনেকে করেছেন এবং তালগোলও পাকিয়ে ফেলেছেন। আমি ওপথে যাচ্ছি না। আমার কাজ পথহারাদের সত্যপথের সন্ধান দেয়া। কাল্ব বিষয়ে পবিত্র কোরআনে সূরা শুআরা, আয়াত: ৮৮-৮৯ এ মহান আল্লাহ বলছেন,
”সেদিন কাজে আসবে না (কোন প্রকার) ধন-সম্পদ কিংবা সন্তান-সন্ততি তবে (উপকারে আসবে) যিনি আল্লাহর নিকট একটি পরিশুদ্ধ কাল্ব নিয়ে উপস্থিত হবেন”।
নফসও বলা হয়নি, রূহও বলা হয়নি। বলা হয়েছে কাল্ব-এর কথা। ধন-সম্পদ অর্থ হল দুনিয়া এবং এর মায়া আর সন্তান-সন্ততি বলতে পরিজনদের বুঝানো হয়েছে। ’সেদিন কাজে আসবে না’, কোন সে দিন? সেদিনটি হল মৃত্যুর দিন। ধন-সম্পদও থাকবে, সন্তান-সন্ততিও থাকবে, থাকবেন না শুধু আপনি। কেউ আপনার মৃত্যুযাত্রা আটকিয়ে রাখতে পারবে না। চলে যেতেই হবে। যেকোন সময়। তবে এমনি এমনি চলে গেলে আপনার ইহকাল তো শেষই পরকালেও আপনি মহাবিপদে পড়ে যাবেন যদি একটি পরিশুদ্ধ কাল্ব নিয়ে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হন। পরিশুদ্ধ কাল্ব কী? কীভাবে কাল্ব বিশুদ্ধ হয়? মহান আল্লাহ বলছেন,
”কোন সন্দেহ নেই আল্লাহর জিকিরের (অর্থাৎ স্মরণ) মধ্যেই কাল্বের প্রশান্তি” (সূরা রা’দ, আয়াত: ২৮)।
আয়াতটিতে মহান আল্লাহ স্পষ্ট এবং খোলাসা করেই বলে দিয়েছেন যে একমাত্র আল্লাহর স্মরণের মধ্যেই কাল্বের শান্তি নিহিত। মহান আল্লাহর স্মরণ তথা জিকির কাল্বে ধারণ করতে হয়। কেউ যদি অন্য কোন কিছুর (ব্যক্তি কিংবা বস্তু) স্মরণে ব্যস্ত থাকে তবে তার কাল্ব কখনো শান্তি পাবে না। মুখের জিকির আর কাল্বের জিকির এক বিষয় নয়। মুখে সবাই আল্লাহ আল্লাহ জপতে পারে কিন্তু কাল্বে দেখা যাবে শয়তানের বসবাস। মুখের জিকির জেগে থাকা পর্যন্ত, ঘুমিয়ে গেলে জিকিরও শেষ কিন্তু কাল্বে যদি জিকির পৌঁছানো যায় তবে কি ঘুমে কি জাগ্রতে কি ব্যস্ততায় কি একাকীত্বে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই জিকির বিরতিহীন চলতেই থাকবে। অনেক গর্দভরা বলে থাকে যে মুখে জিকির করতে করতে একদিন নাকি কাল্বেও জিকির চালু হয়ে যাবে। তারা জানে না কাল্বের এ জিকির মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল হয়। কোরআনে আছে,
”নিশ্চয় আমরা জিকির নাযিল করি এবং নিশ্চয় আমরাই উহার সংরক্ষণকারী” (সূরা হিজর, আয়াত: ৯)।
সবার উপর এ জিকির নাযিল হয় না। যাঁদের উপর এ জিকির নাযিল হয় তাঁদেরকে বলা হয় ’আহলে জিকির’ এবং তাঁদের নিকট থেকেই এ জিকির সংগ্রহ করতে হয়। কোরআনে আছে,
”অতএব জিজ্ঞেস করো আহলে জিকিরদের যদি তোমরা না জানো” (সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ৭)।
আরো উল্লেখ্য যে উপরোক্ত আয়াতে বলা হয়েছে আল্লাহর জিকিরের মধ্যেই কাল্বের প্রশান্তি, এখানে নফস কিংবা রূহের শান্তির কথা বলা হয়নি। এক হাদীসে উল্লেখ হয়েছে, ”শরীরের ভেতর একটি মাংসপিন্ড আছে, সেটি যদি পবিত্র থাকে তবে পুরো শরীরে শান্তি নচেৎ অশান্তি আর সেই মাংসপিন্ডটি হলো কাল্ব”। নফসের চারটি রূপ আছে কিন্তু কাল্বের কোন রূপ নেই, নেই রূহেরও। আবার কাল্বের বহুবচন আছে কিন্তু পুরো কোরআনে রূহ একবচন।
নফস, রূহ এবং কাল্ব সম্পর্কে আরো অনেক কিছু বলা যেত কিন্তু আমাকে এখানে পর্দা টানতে হচ্ছে কারণ কাঁঠাল যে খায়নি তাকে ইনিয়ে-বিনিয়ে যতই কাঁঠালের মজা বুঝানো হোক না কেন সে বুঝবে না। বুঝাতে হলে তাকে আগে কাঁঠাল খাওয়াতে হবে। সুতরাং নফস, রূহ এবং কাল্ব সম্পর্কে আরো জানতে হলে আরো বুঝতে হলে এবং নিজের শরীরে এসব লতীফার অস্তিত্ব অনুধাবন করতে হলে সর্বপ্রথম আপনাকে যা করতে হবে তা হল ঈমান অর্জন। প্রশ্ন করতে পারেন আমাদের মা-বাবা তো ইসলামের অনুসারী, আমরা তো তাদেরই সন্তান কেন আবার ঈমান অর্জন করতে হবে। যদি আমি পাল্টা প্রশ্ন করি যে ধরা যাক আপনার মা-বাবা উভয়ে চিকিৎসক এখন তাদের ঘরে জন্মগ্রহণ করে আপনিও কি নিজেকে চিকিৎসক দাবি করতে পারবেন? যদি না পারেন তবে ঈমানদারও দাবি করতে পারেন না। বলে রাখা ভাল কলেমা আর ঈমান এক জিনিস নয়। কলেমা তাইয়্যেবা যে কেউ আপনাকে পড়াতে পারবে (এমনকি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানও) কিন্তু ঈমান সবাই দিতে পারবে না। ঈমান অনুভব আর ধারণ করার বিষয় মুখে উচ্চারণের বিষয় নয়।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s